সোমবার, ৩০ সেপ্টেম্বর, ২০১৩

কাননবালা

দিনের আলো নিভে এলে কাননবালার
আড়মোড়া ভাঙ্গে
তারপর যত দ্রুত পারা যায়, জড়তা কাটিয়ে
ভেস পাল্টানোর তাড়া
নেশা ধরা সুগন্ধি আর গাঢ় লিপিস্টিকের
আস্তরনে নিজেকে লুকানো
আয়নার প্রতিচ্ছবি সহসাই মুচকি হাসি
দেয় অজান্তে

কানন এই হাসির অর্থ জানে না, তবে এতটুকু জানে
এ যেন আজব এক খেলা......সুখ বিক্রির খেলা......

শুক্রবার, ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০১৩

কাগজের পায়রা

কিছু কাগুজে পায়রার ওড়াউরি পলেস্তা খসে পরা কার্নিশে
নতুন কাগজের..., উহু..; একেবারে চকচকে টাকার গন্ধ,
ঘোরের ভেতর কেমন জানি চনমনে ভাব জাগায় গন্ধটা।

মেয়েটার বিয়ে দিতে হবে, ছেলেটার পড়াশুনা বন্ধ...
টং দোকানটাও মেরামত করা জরুরী, সব সমস্যার
সমাধান হয়ে যাবে এবার।

মন ভরে পায়রাগুলোর দিকে তাকিয়ে থাকে মতি,
যেন সাক্ষাৎ সুখ। আচমকা বিকট একটা শব্দে
পায়রার দল উড়াল দেয়, মতি ব্যাকুল হয়ে উঠে।

মতি মিয়াঁর ঘুম ভাঙ্গে, টাকার পায়রার খোঁজ মেলে
না জগৎ সংসারে, আবার প্রতীক্ষা শুরু হয় মতির,
ঘুমের পৃথিবীর জন্য। 

রবিবার, ১ সেপ্টেম্বর, ২০১৩

অপূরণ,অকারন

এ যেন কল্প-কথার নিস্তব্ধ কোন নগরি,
যার সবটুকু জৌলুস চুরি করে তুমি উধাও।
শহরের দেয়াল জুড়ে তোমায় ফিরে পাওয়ার
আকুতি আর তার উপর বিবর্তনের প্রলেপ

আমি জানি, কোন এক অমাবস্যায় নুপুরের
ঝংকারে জলসার সাঁঝবাতি আর জ্বলবেনা
তবে আমি প্রতীক্ষায় থাকব যার অন্ত নেই,
আমি চাইও না... কিছু চাওয়া পরে থাক না
বুকপকেটে, অপূরণ অকারন

মঙ্গলবার, ২৭ আগস্ট, ২০১৩

বউমনি

তুমি হারিয়ে যাওয়ার কোন নিখোঁজ সংবাদ
বেরুবে না আগামী কালের দৈনিক পত্রিকায়
অথবা কিছুক্ষণ নিরবতা পালন।

সবকিছু আগের মতই থাকবে... ফুটপাত,
বেলুন ওয়ালা, ফুল দোকান; হয়ত ওদের
সাথে দূরত্ব বাড়বে এই যা

বিকেল হলে ব্যাস্ত হওয়া হবে না তোমার
অভিমানী ফোন পেয়ে, তোমার মান ভাঙ্গানোর
পায়তারা অথবা দেরি হওয়ার অজুহাত।

টং দোকানের কেতলিটা উদাস মনে ধোঁয়া
ছেড়ে যায়, আমিও পাল্লা দেই ওর সাথে
আর তোমায় ভালবেসে যাই মনে মনে ।

রবিবার, ২১ জুলাই, ২০১৩

অব্যক্ত অভিব্যক্তি

-মামা চা খাবেন

সূর্য স্নানের কল্যাণে অবস্থা এমনিতেই নাজেহাল অবস্থা,তার উপর চা।

না খাব না 

-মামা খান, দাক্তার আফায় কইছে, গরমে চা খাইলে শইল ঠাণ্ডা হয়।

কি নাম তোর...?

-বল্টু 

বল্টু নামটার অনির অনেক চেনা। শৈশবের স্মৃতি বলতে এই নামটাই মনে আছে। 
বস্তির এক দাদি তার এই নাম দিয়েছিল। একদিন দাদীর জ্বর হল, তারপর চলে 
গেলেন না ফেরার দেশে। তারপর কিভাবে জানি এক এতিম খানায় জায়গা হয়।
সেখানে আব্দুস সাত্তার স্যার ধর্ম ক্লাস নিতেন, তিনি বললেন বল্টু কোন নাম হল।,
আজ থেকে তোর নাম আব্দুল মতিন। কোন এক নিঃসন্তান দম্পতির ঘর আলো 
করে এতিম খানাকে বিদায় বলা হয়, খুব সম্ভবত তখন ৩য় শ্রেণীতে পরত মতিন।
ব্যাপারগুলো আবছা মনে পরে। বিশাল অট্টালিকা এসে মতিনের নাম শেষ বারের
মত পরিবর্তন হয়। ভাবগাম্ভীর্যপূর্ণ নাম, অনিকেত চৌধুরী। 

অতীতের এ বিষয়গুলোর কোনটাই তনুজা জানে না। তাকে কথাগুলো বলা দরকার
কারন ওর সাথে অনির বিয়ের কথা চলছে। অনি যদিও জানেনা তনু বিষয়টা কিভাবে
নেবে, তারপরও আজ সে তার মনের কথাটা বলবে। তবে বেশীর ভাগ মনের কথাই
গোপন কথা হয় আর গোপন কথা নিজের দুর্বলতা প্রকাশ করে। 

বল্টু একটু দূরে এক যুগলকে চা খাওয়ার উপকারিতা বলছে, চা খাওয়ার
ফাঁকে একটু মুচকি হাসি, হবে হয়তো কোন হাস্যকর গোপন কথা।  

মঙ্গলবার, ৯ জুলাই, ২০১৩

ঘোর

হিম শীতল অ্যালকোহলের গ্লাসে
জমে থাকা বিষাদের আমরণ অনশন।

আলো-আঁধারের ঘোর চক্রান্ত, নেশার
মাত্রা বাড়িয়ে দেয় নিজের অজান্তেই।

প্রতিটা চুমুকে শরীরের আদ্যোপান্ত
উষ্ণ অনুভূতির গোল্লাছুট খেলা।

মাতাল অনুভূতি সঙ্গি করে ভাসমান
রাজপথে অনর্থক মৌন মিছিল।

অতঃপর, চির চেনা পথের অচেনা মোড়,
নৈশ প্রহরীর হুঁশিয়ার সংকেত, অবচেতন
মনে গুন গুন, হারিয়ে যাওয়া কোন গান।

ফেরা

তুই থাকলে হয়তো ভাল থাকা না থাকার
এই দর কষাকষি করতে হত না।
উদাস দুপুর, নিঃসঙ্গ বেলকনি সবকিছুর
ইতি টেনে পারি জমাতাম স্বপ্ন রাজ্যে।
সময়ের ফেরে তুই অন্তরের ভেতর সাদা গ্লাডিওলাস
আমি চাতকের ফুটিক জল আওরানো ক্যাঁকটাস