বৃহস্পতিবার, ১৫ মে, ২০১৪

সত্ত্বা ও স্বপ্ন

কোন এক আলো ঝলমলে রাতে ছা পোষা স্বপ্নগুলো
লিমোজিন কিংবা লেক্সাসে বাইপাস হাকিয়ে তোমার
রাজপ্রাসাদে হাজির হবে,গণ্যমান্য বাক্তি-বর্গের উষ্ণ
অভ্যর্থনায় আমি নির্বাক, উচ্চবর্গীয় আলাপচারিতার
অন্তরালে হারিয়ে যাবো আমার আমি,

ভীষণ তেষ্টায় ঘুম ভেঙ্গে যাবে, বাসায় পানি নেই...
অগত্যা কাজলের টং দোকান ও এক গ্লাস পানি
তারপর একটা সিগারেট সাথে গন্তব্যহীন রিক্সা
ভ্রমণ,স্বপ্নের সাথে বউন্ডুলে বাস্তবতার অমীমাংসিত
ফলাফল ও ফলস্বরূপ মুখে মুচকি হাসি আনাগোনা
এবং রিক্সা ওয়লার এ হাসির রহস্য ভেদের চেষ্টা

কানন বালা ২য়

স্ট্রীট লাইটগুলোর ঝলমলে আলো ফিকে
হয়ে যায় একদল গণিকার মিথ্যে প্রনয়ে,
লিপিস্টিকের পুরু আস্তরনে ঢাকা ঠোঁটের
আহ্বানে, কামার্ত যুবার ক্লান্ত পেশী ফুঁসে
ওঠে, শুরু হয় দর কষাকষি, পেটের ক্ষুধার
বিপরীতে শরীরের ক্ষুধা নিবারণের পায়তারা

রবিবার, ২৭ এপ্রিল, ২০১৪

যাদুর শহর ২

যদিও শহরটার কাছে দিন-রাত শুধুই সময়ের
ব্যাবধান, তবুও রাতের পৃথিবীটা মনে হয় একটু
বেশীই জমকালো। ক্যামন জানি অন্ধকার-আলো
আবার অন্ধকার ,যেন ঘুমের ঘোরে থাকা নির্ঘুম চোখ

তার সাথে ঘড়ির বিপরীতে ঘুরতে থাকা রাতজাগা
পথিকের ভবঘুরে মন, একটা নেড়ি কুকুরের নির্লজ্জ
চাহুনি, ভাসমান বেশ্যার অকারন আদিক্ষেতা আর
শহরজোরা কিছু ঘুমন্ত মানুষ
feeling ঘুম.

বুধবার, ১৬ এপ্রিল, ২০১৪

কাঠপেন্সিল

ক্ষয়ে যাওয়া কাঠপেন্সিলের অলস সময় কাটতেই চায়
না, স্বপ্নে প্রায়ই সৃষ্টি সুখের উল্লাসে তৃপ্তটা আসে তার।
ধব-ধবে সাদা ক্যানভাসে সে আর তার কারুকাজ।

হতাশার সুতোয় কাটাপরা আশার ঘুড়িটার পানে বৃদ্ধ
মজনু মিয়ার শূন্য দৃষ্টি, নিস্প্রান শরীরের সমস্ত শক্তি
দিয়ে প্যাডেলে বেঁচে থাকার তাগিদ দেয় সে। বয়সের
ভারে নূজ্জ্ব রিক্সাটাও কিঞ্চিত কুকিয়ে ওঠে।

সুখের খোঁজ

এখনো স্পষ্ট সেই রাতটা, স্টেনগান হাতে আদরের একমাত্র
সন্তান দেশের জন্য ছুটে যায়, একটা স্বাধীন দেশের মানচিত্র
নিয়ে তবেই ফিরবে......, এমনটাই কথা ছিল

তারপর চুয়াল্লিশ বছর অপেক্ষা... দেশ মুক্ত হয়, ফয়েজ
মিয়াঁর মুক্তি মেলে না। এখন লাল-সবুজের পতাকা ফেরি
করে দিন কাটে আর সময় পেলে..., ছেলে ফিরে আসার
কল্পনায় ডুবে থাকেন

১৪৪ ধারা

তবে তাই হোক...
সময়ের প্রয়জনে এ পৃথিবীটা যদি ছোট লাগে
চলে যেতে পারো তোমার বর্ণোজ্জ্বল ভুবনে
সেথা যেতে কোন বাধা নেই

তবে তাই হোক...
দূরত্বের অতিকায় দেয়াল, আকাশের কপাল চুমে
দিক, আর সেটা টপকে ফিরে আসার পরিকল্পনা
ছিলগালা করা হোক

তবে তাই হোক বালিকা
জানালার কার্নিশে লক্ষ্মী প্যাঁচার ডাকের ওপর
১৪৪ ধারা জারি থাক সবসময়ের জন্য

স্ট্রীট লাম্প

তারপর..., তারপর শেষ রাত আসে
নেশাতুর ঘুম ঘুম চোখে দূরের রেড সিগন্যাল
ঝাপসা হয়ে যায়

দূরপাল্লার বাসের কর্কশ চিৎকারে নিশ্চুপ
পথের নিরবতায় চির ধরে

স্ট্রীট লাম্পের হলদে আলোয় একটা বকুল
গাছের ভোরের জন্য অপেক্ষা

আর একা একলা একটা তারার আপন মনে
গুন গুনিয়ে গান গাওয়া